NEET পরীক্ষায় অনিয়ম, ফলাফল নিয়ে এত বিতর্ক কেন ?

৪ জুন ভোটের রেজাল্টের দিন বেরোয় NEET-র ফলাফল। তবে ফলাফল দেখে চোখ কপালে ওঠে ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষকদের। NEET-র এর ইতিহাসে এই প্রথমবার ৭২০ নম্বরের মধ্যে ৭২০ পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে ৬৭ জন। তাছাড়া এমন অনেক নম্বর ছাত্রছাত্রীরা পেয়েছে যা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এরপর থেকেই সমাজমাধ্যমে শুরু বিতর্ক, বিক্ষোভ। এছাড়াও প্রশ্নপত্র ফাঁস, গ্রেস মার্কস দেওয়ার মতো বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। যা NEET পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতার উপর রীতিমতো প্রশ্ন তুলেছে।

মজার বিষয়টি হল, অতীতে যেখানে ৬৫০ নম্বর পাওয়া বিরাট ব্যাপার ছিল, সেখানে এবারের ডাক্তারিতে ভর্তির পরীক্ষায় ৬৫০ পাওয়া ছাত্রছাত্রীরা সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে জায়গা পাবে না। এনিয়েও দেখা গেছে বিভ্রান্তি ও দুশ্চিন্তা।

কিন্তু ঠিক কী কী কারণে এই বিতর্ক ?

১. সময় নষ্ট হওয়ার জন্য গ্রেস মার্কস – জানা গেছে কিছু কিছু পরীক্ষার হলে দেরিতে প্রশ্নপত্র দেওয়া হয় কিন্তু নির্দিষ্ট সময়েই উত্তরপত্র নিয়ে নেওয়া হয়। সেই নিয়ে NTA-র কাছে অভিযোগ জানানো হলে NTA সেই সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের গ্রেস মার্কস দেয়। যা এই প্রথম। আবার এই অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার ফলে ছাত্রছাত্রীদের প্রাপ্ত নম্বর অদ্ভুভাবে বেড়ে গিয়েছে। কিছু কিছু ছাত্রছাত্রী ৭১৮ ও ৭১৯ পেয়েছে যা NTA-র নম্বর দেওয়ার নিয়ম অনুযায়ী অসম্ভব।

২. NEET চিটিং দুর্নীতি – গ্রেস মার্কসের থেকেও বড় প্রশ্ন উঠেছে একটি প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে। NEET পরীক্ষার ২ দিন আগে অভিযোগ ওঠে, একটি বিদেশি এডুকেশন কনসালটেন্সির মালিক পরশুরাম রায়, তুষার ভট্ট নামের একজন স্কুল শিক্ষক এবং গুজরাতের ১৬ জন ছাত্রছাত্রী নাকি প্রত্যেকেই ১০ লক্ষ টাকা করে দিয়ে পরীক্ষায় পাশ করার চেষ্টা করেছেন। এই দুর্নীতির খবর সামনে আসতেই NEET ফলাফলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

৩. NTA এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি অস্বীকার – NEET পরীক্ষা হওয়ার পরই প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি সামনে আসে এবং পুলিশে অভিযোগও দায়ের করা হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু NTA অভিযোগটি সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে এবং বলে পরীক্ষা স্বচ্ছভাবেই হয়েছে।

৪. অস্বাভাবিক ফলাফলের তালিকা – এই বিতর্ক আরও বেশি করে মাথাচাড়া দেয়, যখন জানা যায় হরিয়ানার একই পরীক্ষার হল থেকে ৭-৮ জন একই নম্বর পেয়েছে এবং তাদের রোল নম্বরও পর পর একই লাইনে রয়েছে। কোথাও যেন পরীক্ষার হলে চিটিং করার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

অভিযোগের মুখে পড়ে NTA সমাজ মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে গ্রেস মার্কস পাওয়ার বিষয়টি পরিষ্কার করেছে। তারা জানায়, তারা সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নরমালাইজেশন ফর্মুলা অনুযায়ী নম্বর দিয়েছে। এই ফর্মুলা অনুযায়ী ৭১৮ বা ৭১৯ নম্বর পাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল-https://www.youtube.com/@NagarNama424

ফলো করুন ফেসবুক পেজ-https://www.facebook.com/nagarnamanews

Leave a Reply

Your email address will not be published.