ফেল মোদি ম্যাজিক, মমতা-অভিষেকেই ভরসা রাখল বাংলা

২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে মোদি গ্যারান্টিতে মন মজল না বাঙালির। শেষ হাসি হাসল মমতা-অভিষেক জুটি । বুথ ফেরৎ সমীক্ষা যেন রসিকতা হয়ে দাঁড়াল। কেন ফলাফলে ঝড় তুলল সেই সবুজ শিবির। মমতা ব্যানার্জি এই সমীক্ষা প্রসঙ্গে আগেই বলেছিলেন, “সব ফেক”। এবার সেটাই যেন সত্যি হয়ে গেল। তবে সন্দেশখালি থেকে একাধিক দুর্নীতি এত ইস্যু থাকা সত্ত্বেও ঠিক কোথায় পিছিয়ে গেল গেরুয়া শিবির। কোন কোন ফ্যাক্টরে জমে গেল খেলা? আসুন দেখে নেওয়া যাক।

১. ২০১৯ সালের থেকেও রাজ্যে শক্তি বাড়িয়েছে তৃণমূল । ২০২৪ সালে তৃণমূল ২৯টি আসন পেয়েছে । এক্ষেত্রে এক্স ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। ফেব্রুয়ারি মাসের বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দ্বিগুণ করা হয় । আর এর জেরে মহিলা ভোটাররা ‘দিদি’কেই ভরসা করেছেন ।

২. মমতা ব্যানার্জি দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন । একশো দিনের কাজ, আবাস যোজনার টাকার দাবিতে মাঠে নেমে আন্দোলনও চালিয়েছেন । যদিও কেন্দ্রীয় সরকার ও BJP নেতাদের তরফে রাজ্যের কাছে বার বার টাকার হিসেব চাওয়া হয়েছিল । সেই হিসেব এখনও চলছে । কিন্তু জনগণ সমর্থন করেছেন মমতা ব্যানার্জিকে । ফলস্বরূপ ভোট বাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে সেই সমর্থন।

আরও পড়ুন : তরুণ প্রার্থী, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ; তবুও কেন ঝুলি শূন্য বামেদের ?

৩. একশো দিনের কাজের টাকা নিয়েও বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। কেন্দ্র টাকা আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মমতা ব্যানার্জি। শেষে রাজ্য সরকারের ভাঁড়ার থেকে শ্রমিকদের বকেয়া টাকা প্রদান করা হয়েছে। এই উদারতায় আবার জিতে গেলেন মমতা ব্যানার্জি।

৪. তৃণমূল স্তরে নেমে প্রচার করেছেন। দলনেত্রী , সেনাপতি , তারকা প্রার্থী থেকে শুরু করে মাঠে নেমেছেন সকল নেতা-কর্মীরা । পরিসংখ্যান বলছে, পশ্চিমবঙ্গে সব বিরোধী দলকে পিছনে ফেলে সর্বাধিক প্রচার সভা করেছে তৃণমূল । জানা যায়, তৃণমূল একাই ৪৫ হাজার ৮৬০টি প্রচার কর্মসূচি করেছে । ২১ হাজার ৬২৯টি প্রচার কর্মসূচি করে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে BJP । প্রচারের পরীক্ষাতেও বাজিমাত তৃণমূলের ।

৫. মমতার আবেগ ও অভিষেকের রণনীতি সত্যি “জনগণের গর্জন , বাংলায় বিরোধীদের বিসর্জন” দিয়ে দিয়েছে ।

৬. প্রার্থী তালিকা প্রকাশেও বিলম্ব করেনি তৃণমূল । বিরোধী দলগুলির অনেক আগেই ৪২ আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছিলেন দলের সেনাপতি অভিষেক ব্যানার্জি। ফলে বিরোধীদের থেকে বেশি সময় পেয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। অন্যদিকে, বিরোধীদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশে গদাইলস্করি চাল কোথাও যেন তাদের আরও পিছিয়ে দিয়েছে।

৭. হিন্দু মুসলিম ভোট ফ্যাক্টরও কাজে এসেছে। উদাহরণ হিসেবে রবিনহুড অর্থাৎ অধীর চৌধুরির শক্ত ঘাঁটি বহরমপুরেও ঘাসফুল ফুটিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী ইউসুফ পাঠান ।

৮. সন্দেশখালি ইস্যুতে BJP গণতন্ত্রের রুটি সেঁকতে চেয়েছিল । কিন্তু সন্দেশখালি একটি এলাকা মাত্র । সেই দিয়ে অমিত শাহের দাবি অনুযায়ী ৩০ টি আসনের গণ্ডি পার করা অসম্ভব ছিল । সন্দেশখালির ঘটনার পর কিছু ভিডিয়ো সামনে আসে । যার ফলে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল মানুষের মধ্যেও । তৃণমূল এই আসনে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও অনেক বিবেচনা করেছিল । আর তাই সব অভিযোগ উড়িয়ে বসিরহাটে আবার জয়ী তৃণমূল ।

৯. সবশেষে অনুদানের রাজনীতি ‘দুর্নীতি’ ভুলিয়ে দিয়েছে। মানুষ আবার তৃণমূলকেই ভোট দিয়েছে । তাই, ৪২ টি আসনের মধ্যে ২৯ টি আসনে জয়ী তৃণমূল প্রার্থীরা।

সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল-https://www.youtube.com/@NagarNama424

ফলো করুন ফেসবুক পেজ-https://www.facebook.com/nagarnamanews

Leave a Reply

Your email address will not be published.