“এবার কি আমাকে রাস্তা ঝাঁট দিতে হবে” নবান্নে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী

সোমবার নবান্নের বৈঠকে রণংদেহী মূর্তি মুখ্যমন্ত্রীর। পৌরসভাগুলির পরিষেবার মান তলানিতে ঠেকেছে, তা এদিন তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন। পাশাপাশি আমলা থেকে মন্ত্রী-বিধায়ক কেউই রেহাই পেলেন না মুখ্যমন্ত্রীর ভর্ৎসনা থেকে। বরং কয়েকজনের নাম করে সমালোচনা করেছেন তিনি।

রাস্তায় জল জমা,অপরিষ্কার রাস্তা, সরকারি জমি জবর-দখল ইত্যাদি নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী। পৌরসভাগুলির ত্রুটি – বিচ্যুতি সামনে এনে সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট কার্ডও দিলেন। তাঁর কথায়, পৌর-পরিষেবার মান ক্রমগত হ্রাস পাচ্ছে এবং বাড়ছে দুর্নীতি।

বৈঠকে কেউই মুখ্যমন্ত্রীর ভর্ৎসনা থেকে রেহাই পেলেন না। এদিন রথীন চক্রবর্তীর দিকে সরাসরি নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি বলেন,”রথীন পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন, হাওড়ার বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। ” এছাড়া জমি দখল ও বেআইনি নির্মাণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সরকারি জমি জবর দখল করে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।” হাতিবাগানের হকার বৃদ্ধির প্রসঙ্গও তোলেন এবং সেখানে আলাদা করে ফুড জোন তৈরির করার কথা বলেন।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ছিলেন মন্ত্রী সুজিত বসুও। “সল্টলেকে সুজিত বসু লোক বসাচ্ছে, ছবি দেখালে লজ্জা পাবেন। ‘কত টাকার বিনিময়ে সল্টলেকে জবরদখল, কেন কাজ করছে না পুরসভা?” আমলা ও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে তিনি ঘুষ নেওয়া ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “অনেক হয়েছে আর না। এবার চোখে লাগছে। বাংলার আইডেন্টিটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ সবে রাজ্যের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।’’

বাংলার সংস্কৃতি ও ভাষা নিয়েও চিন্তা প্রকাশ করতে দেখা যায় তাঁকে। বাইরের রাজ্য থেকে লোকজন এসে সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছে। তাঁর মতে, এতে সরাসরি রাজকোষে টান পড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.