অনুদান আটকে দিয়েছিল FTII,কান চলচ্চিত্র উৎসবে ইতিহাস গড়লেন পায়েল

কান চলচ্চিত্র উৎসবের (Cannes Film Festival) দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার গ্রাঁ প্রি (Grand Prix) জিতে ইতিহাস রচনা করলেন ভারতের কন্যা পায়েল কাপাডিয়া (Payel Kapadia)। পরিচালক পায়েলের অল উই ইমাজিন অ্যাজ় লাইট (All we imagine as light) সিনেমাটি জিতে নিল উৎসবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মান। এরপর থেকেই গোটা বিশ্বে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

সাফল্য নিয়ে এখন কথা হলেও এর বীজ বোধহয় অনেক আগেই বপন করেছিলেন পায়েল। আর তাঁর দৃঢ় চোখ শুধু অপেক্ষায় ছিল যে, এই সংগ্রামের বীজ কবে মহীরূহে পরিণত হয়ে বিশ্ব দরবারে তাঁকে কাঙ্খিত সাফল্য দান করবে। ২০১৫ সাল। পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন হিন্দি টেলিভিশন ও ভোজপুরী অভিনেতা গজেন্দ্র চৌহান। তাঁকে এই পদে নিয়োগ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। আর এর জেরেই প্রতিবাদে নামে পড়ুয়ারা। চার মাস টানা প্রতিবাদ চলে। শেষমেশ পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয় গজেন্দ্রকে।

উল্লেখ্য,সেইসময় আন্দোলনে সামিল ছিলেন পায়েল। ক্লাস বয়কট, অফিস ঘেরাও সহ নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। সেইসময় পুলিশ যাদের নামে চার্জশিট দাখিল করে, তাদের মধ্যেও ছিলেন পায়েল। এরপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তরফে তাঁর অনুদান বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিভা তার কাঙ্খিত গন্তব্য খুঁজে নেয়। প্রতিকূলতা পেরিয়ে এবার কানের মঞ্চে সম্মানিত হলেন অন্ধ্রপ্রেদেশের সেই মেয়ে।

প্রসঙ্গত, মুম্বইয়ে বসবাসকারী দুই কেরালার নার্সের জীবনের জটিলতার গল্প নিয়ে তৈরি এই ছবি। FTII-র প্রাক্তন ছাত্রীর ডকুমেন্টারি (A Night of Nothing) ২০২১ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট সাইড-বারে দেখানো হয়েছিল এবং সেখানে এটি পুরস্কারও জেতে।

উল্লেখ্য, চেতন আনন্দের নিচা নগর (Nicha Nagar) একমাত্র ভারতীয় চলচ্চিত্র যেটি ১৯৪৬ সালে শীর্ষ পুরস্কার পালমে ডি’অর (Palme d’Or) জেতে। এছাড়াও মৃণাল সেনের নাটক খারিজ ( Kharij) ১৯৮৩ সালে জুরি পুরস্কার জিতেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.