রূপের ঝলকানিতে ঢাকা পড়ল হীরামান্ডির মূল গল্প

মাসের প্রথমেই নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে সঞ্জয়লীলা বানসালির বহু প্রতীক্ষিত সিরিজ হীরামান্ডি (Heeramandi)। ট্রেলার দেখেই বোঝা গেছিল তাঁর অন্যান্য ছবির মতো এই সিরিজটিও বেশ জাঁকজমকপূর্ণ হবে। আর সেদিক থেকে আবারও দক্ষ নির্মাতা হিসেবে নিজের জাত চিনিয়েছেন বানসালি। প্রতিটি দৃশ্যায়নই তারিফযোগ্য।

১৯২০ থেকে ১৯৪৫-র অবিভক্ত ভারতের লাহোরের হীরামান্ডিতে গণিকাদের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা, তাদের দুঃখ, অসহায়তা, নির্মমতা এবং সাহসের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে সিরিজটি। সিরিজে তিনটি প্লট সমান্তরালভাবে চলতে থাকে, যেগুলি একে অন্যের সঙ্গে জড়িত। গণিকাদের প্রতিশোধস্পৃহা, হীরামান্ডির সমস্ত ক্ষমতা দখলের অভিপ্রায়ের মাঝেই গজিয়ে উঠেছে টুকরো টুকরো প্রেমের গল্প। বলাবাহুল্য সময়ের ফেরে গণিকাদের দরজাতেও কড়া নেড়েছে স্বাধীনতা আন্দোলনের হাওয়া।

কস্টিউম, প্রোডাকশন ডিজাইন ও সেট এককথায় অনবদ্য। বিশেষ করে গণিকাদের থাকার মহলের সাজসজ্জা নজর কাড়তে বাধ্য। বড় বড় ঝাড়বাতি থেকে পর্দা, জানালা, দরজা কিংবা দেওয়ালের প্রতিটি নকশা সবকিছুতেই বানসালির সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গির প্রত্যক্ষ ছাপ রয়েছে। পোশাকসজ্জাও তেমনই সুন্দর ও আকর্ষণীয়।

গল্পকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে এর গানগুলি। সংগীত পরিচালনা আলাদা করে প্রশংসার দাবি রাখে। সিরিজের শেষে আজাদি গানটি গায়ে কাঁটা দিতে বাধ্য। আমির খসরুর সকল বন-এর গায়কী এবং চিত্রায়ন খুবই নজরকাড়া। এছাড়া ছবির প্রতিটি গানই দর্শকদের মন জয় করবে। উল্লেখ্য ক্যামেরার কাজও অসাধারণ। খুঁত ধরা মুশকিল।

সংলাপও যথাযথ। কিছু কিছু জায়গায় অসাধারণ হয়ে উঠেছে। তবে সিরিজের শিরদাঁড়া কিন্তু মনীষা কৈরালা। নিজের ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স দিয়েছেন তিনি। প্রমাণ করে দিয়েছেন যে এখনও সিনেমাকে অনেক কিছু দেওয়ার আছে তাঁর। এছাড়া যার কথা বলতেই হয় তিনি হলেন সোনাক্ষী সিনহা। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি খুবই শক্তিশালী। তাঁর চোখের চাহনি এবং অভিব্যক্তি সবকিছুই অসাধারণ। এছাড়া মূল চরিত্রে রিচা চাড্ডা (লজ্জো), অদিতি রাও হায়দারি (বিব্বোজান), সঞ্জিদা শেইখ (ওয়াহিদা) এবং পার্শ্ব চরিত্রে জয়তী ভাটিয়া (ফাত্তো), নিবেদিতা ভার্গব (সাত্তো), ইন্দ্রেশ মালিক (উস্তাৎজি) সকলেই যথাযথ।

আরও পড়ুন : জীবন যুদ্ধে জয়ী শ্রীকান্ত, সেলুলয়েডে কতটা সফল?

চিত্রনাট্যে কোথাও গিয়ে মার খেয়েছে সিরিজটি। অনেককিছু দেখাতে গিয়ে কোনওকিছুই যেন ভালোভাবে দেখানো গেল না। লেখার দুর্বলতার কারণে মার খেয়েছে সোনাক্ষী সিনহা, সঞ্জিদা শেইখের চরিত্রগুলিও। খুব তাড়াহুড়ো করেই যেন শেষ হয়ে গেল সিরিজটি। সবমিলিয়ে বলতে গেলে খুব একটা হতাশ করবে না সিরিজটি। একবার দেখা যেতেই পারে।

সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্য়ানেল- https://www.youtube.com/@NagarNama424

ফলো করুন ফেসবুক পেজ– https://www.facebook.com/nagarnamanews

ফলো করুন X হ্য়ান্ডেলে – https://twitter.com/nagarnama

Leave a Reply

Your email address will not be published.