চরম জল সংকটে ভারতের ৫টি রাজ্য

বিশ্বজুড়ে চলছে দ্রুত নগরায়ন এবং শিল্পায়ন। যার ফলাফল বিশ্ব উষ্ণায়ন। গত ৩ মাস ধরে ভারতে তীব্র তাপপ্রবাহ চলেছে। যা সর্বকালের রেকর্ড ছুঁয়েছে। উত্তর ভারতে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বেশ কয়েকটি শহরে তাপমাত্রা ৪৫-৫০ ডিগ্রিও ছাড়িয়েছে। এর ফলেই শুরু হয়েছে জল ও বিদ্যুৎ সংকট। ভারতের কয়েকটি রাজ্যের এমন অবস্থা যে, জলের জোগাড় করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।  

গত কিছু মাসের তথ্য অনুযায়ী তীব্র জলসংকটে ভুগছে নিম্নলিখিত রাজ্যগুলি :

১. রাজস্থান – শুষ্ক জলবায়ু এবং খরার জন্য পরিচিত রাজস্থান। কম বৃষ্টিপাতের কারণে প্রতি গ্রীষ্মেই জলের চাহিদা বেড়ে যায় এখানে এবং দেখা দেয় জল সংকট। এবছরের অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের কারণে অবস্থার অবনতি হয়েছে। জানা গেছে, ৪০ টির বেশি জেলায় দেখা দিয়েছে তীব্র জল ও বিদ্যুৎ সংকট। জলবণ্টন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী বেশিরভাগ শহরে পৌঁছাচ্ছে না পর্যাপ্ত পানীয় জল।

২. মহারাষ্ট্র – গ্রীষ্ম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মহারাষ্ট্রে  পানীয় জলের অভাবের খবর পাওয়া গেছে। গ্রামের মহিলারা পানীয় জল আনতে গিয়ে রীতিমতো বিপাকে পড়েছেন। কিছু কিছু গ্রামে মাত্র দুটি কুয়ো আছে, যেগুলি প্রায় শুকিয়ে গেছে। সেই জল খেয়ে অসুস্থ হচ্ছে মানুষ। আবার কোনও কোনও জায়গায় ১৫০০ জনের একটি গ্রাম প্রতিদিন জলের জন্য ২-৩টি ট্যাঙ্কারের উপর নির্ভরশীল।

৩. গুজরাত – অর্থনীতিতে সমৃদ্ধশালী গুজরাতেও প্রতি গ্রীষ্মেই দেখা যায় জলসংকট। এর কারণ হিসাবে দুটি বিষয়কে চিহ্নিত করা যায়। একটি হল ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং অপরটি দ্রুত শিল্পায়ন। এছাড়া এবছরের অনেকদিন ধরে চলা তাপপ্রবাহ এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে নর্মদা বাঁধের মতো রাজ্যের প্রধান জলের উৎস এবং আরও কয়েক ড’জন বাঁধ ও জলাধার শুকিয়ে যাচ্ছে। দেখা দিচ্ছে তীব্র জলকষ্ট।

৪. কর্ণাটক – বেঙ্গালুরুর তীব্র জল সংকট সবার জানা। বেঙ্গালুরুতেই খরা এবং ভূগর্ভস্থ জলের স্তর হ্রাস পাচ্ছে। রাজ্যের মধ্য দিয়ে কাবেরী নদী বয়ে গেলেও মাটির নিচের জল শুকিয়ে যাওয়ার কারণে সংকটে রয়েছে কয়েকশো গ্রাম।

৫. তামিলনাড়ু – একই অবস্থা তামিলনাড়ুতেও। চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরগুলিতে প্রতি বছরই দেখা যায় জলাভাব। তামিলনাড়ুর সরকার এবছর ২২টি জেলায় জলাভাবের কথা ঘোষণা করেছে। জলের সাপ্লাই বাড়ানোর জন্য ১৫০ কোটি টাকাও বিনিয়োগ করেছে সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.