স্পিকার পদে পুনর্নির্বাচন ওম বিড়লার

ধ্বনিভোটে অষ্টাদশ লোকসভা অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচিত হলেন ওম বিড়লা। বিরোধীরা প্রার্থী দিলেও, ধ্বনি ভোটে শেষ হাসি হাসলেন তিনি। দ্বিতীয় বারের জন্য লোকসভায় বহাল থাকল তাঁর স্পিকার পদ।

বিরোধীদের দাবিতে কয়েকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল এবার স্পিকার পদের জন্য ভোটাভুটি হবে। কারণ স্পিকার পদ নিয়ে একাধিক সওয়াল করতে দেখা যায় বিরোধীদের। হারের ইঙ্গিত পেয়ে কংগ্রেসের তরফে আটবারের সাংসদ কে সুরেশকে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল। বুধবার ১১ টা থেকে শুরু হয় ভোটাভুটি। অবশেষে ধ্বনিভোটের সিদ্ধান্ত যায় NDA প্রস্তাবিত ওম বিড়লার দিকে। এনিয়ে টানা দুবারের স্পিকার থাকার নজির গড়লেন তিনি।

এরপর প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি এবং সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু নবনির্বাচিত স্পিকারকে তাঁর আসন পর্যন্ত এগিয়ে দেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী সহ বিরোধী দলনেতা বক্তৃতার মাধ্যমে স্বাগত জানান ওম বিড়লাকে। যদিও রাহুল গান্ধি স্বাগত জানানোর পাশাপাশি বিরোধী কণ্ঠ না দমানোর আর্জি জানিয়েছেন এবং হাসিমুখে স্পিকারের কর্তব্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত লোকসভায় শীতকালীন অধিবেশনে ১৪১ জন বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করতে দেখা গিয়েছিলো।

অন্যদিকে অভিষেক ব্যানার্জিকে ধ্বনিভোট নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা যায়। তাঁর মতে একজন সাংসদও যদি ভোটাভুটি চান। প্রোটেম স্পিকারকে তা শুনতে হবে। তাঁর মতে NDA -র কাছে সংখ্যাধিক্যের আত্মবিশ্বাস নেই, তাই ধ্বনি ভোটেই আস্থা রেখেছিলেন তারা।

প্রসঙ্গত, এর আগে ১৯৯৮ সালে ধ্বনিভোট হয়েছিল। সেই সময় জয়ী হন অটল বিহারি বাজপেয়ীর প্রস্তাবিত জি এম বালাযোগী। এছাড়াও স্বাধীনতার পর আরও তিনবার ভোটাভুটি হয় লোকসভায় অধ্যক্ষ নির্বাচনের ক্ষেত্রে। ১৯৫২ সালে প্রথমবার ভোটাভুটির মাধ্যমে নির্বাচিত হন জি ভি মভলঙ্কর। তিনি ছিলেন নেহুরু প্রস্তাবিত প্রার্থী। তাঁর উল্টোদিকে ছিলেন CPI- র এর শঙ্কর শান্তারাম। এরপর ১৯৬৭ সালে ফের ভোটাভুটি প্রক্রিয়ায় জয়ী হন নীলাম সঞ্জীব রেড্ডি। এখানেই শেষ নয় জরুরি অবস্থার সময় ভোটাভুটির মাধ্যমে অধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছিল। সেবার লোকসভার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকারীর আসনে বসানো হয়েছিল ইন্দিরা গান্ধি প্রস্তাবিত বি আর ভগৎ কে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.