হাথরসে সৎসঙ্গে এসে মৃত ১২১, কে এই ভোলে বাবা?

গতকাল হাথরসে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১২১ জনের। দেশজুড়ে রীতিমতো নিন্দার ঝড়। সৎসঙ্গের নিরাপত্তা, যথাযথ আয়োজন ব্যবস্থা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, ভোলে বাবার অনুষ্ঠানে গিয়ে এই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। হাথরসে তাঁর ছবিতে ইট পাথরও ছুড়তে দেখা গেছে লোকজনকে। কিন্তু কে এই স্বঘোষিত গুরু ভোলে বাবা ওরফে নারায়ণ সাকার?

অনুগামীদের কাছে ভোলে বাবা নামে পরিচিত এই স্ব-ঘোষিত গুরুর আসল নাম সুরজ পাল সিংহ। উত্তরপ্রদেশের ইটা জেলার বাহাদুর নাগরি গ্রামে এক কৃষকের ঘরে জন্ম হয় তাঁর। পড়াশুনার শেষ করার পর তিনি UP পুলিশে যোগদান করেন এবং প্রায় আঠেরো বছর ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে হেড কনস্টেবল হিসাবে কাজ করেন। তাঁর অনুগামীদের দাবি গোয়েন্দা বিভাগেও কাজ করেছেন তিনি।

১৯৯৯ সালে ধর্মীয় বানী প্রচারের উদ্দেশ্যে পুলিশের চাকরি থেকে স্বেচ্ছাবসর গ্রহণ করেন সুরজ। নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন নারায়ণ সাকার হরি। এরপরই শুরু হয় সৎসঙ্গগুলি।

এখন তাঁর উত্তরপ্রদেশ ছাড়াও রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশসহ আশেপাশের রাজ্যগুলিতে হাজার হাজার অনুগামী রয়েছে। তাঁর অনুগামীদের দাবি, ভোলে বাবা নাকি গ্রামের একটি কুঁড়েঘরে থাকেন এবং প্রচারের জন্য সারা উত্তরপ্রদেশ ঘুরে বেড়ান। ভোলে বাবার যদিও কোনো ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই তবে ইউটিউবে একটি অ্যাকাউন্ট আছে। যেখানে ভক্তিমূলক গান এবং সৎসঙ্গের ভিডিও প্রচার করা হয়।

উল্লেখ্য, এই বাবার সাজপোশাক কিন্তু অন্যান্য স্ব-ঘোষিত ধর্মগুরুদের মত নয়। ভোলে বাবাকে সবসময়েই দেখা যায় সাদা স্যুট এবং টাই বা সাদা কুর্তা পায়জামাতে। সঙ্গে সর্বদাই থাকেন স্ত্রী প্রেমবতি। পুরুষ এবং মহিলা রক্ষীদের নিয়ে একটি নিরাপত্তা দল রয়েছে তাঁর। যার নাম নারায়ণী সেনা। এই সেনাই বিশাল জনসমাগমগুলির মধ্যে তাঁকে আশ্রম থেকে সৎসঙ্গের স্থানে নিয়ে যায়।

হাথরাসের মর্মান্তিক ঘটনার পর খুঁজে পাওয়া যায়নি ভোলে বাবাকে। কোনোরকম শোকপ্রকাশ বা ভক্তদের সান্তনা কিছুই করতে দেখা যায়নি তাঁকে। বরং যেন গায়েব হয়ে গেছিলেন তিনি। দুর্ঘটনার পর মেইনপুরিতে তাঁর আশ্রমে গিয়েই তাঁর খোজ পাননি তদন্ত কমিটির সদস্যেরা। যদিও বুধবার ঘটনাতে শোকপ্রকাশ করেছেন তিনি এবং এই ঘটনার পিছনে অ্যান্টি সোশ্যাল এলিমেন্ট দায়ী রয়েছে বলে দাবি করেছেন।

এটিই বাবার প্রথম বিতর্ক নয়। ২০২২ সালে কোভিডের সময় জমায়েত করা নিয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সৎসঙ্গ করতেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের ফারুখাবাদে সেরকমই একটি সৎসঙ্গ করেছিলেন। যেখানে জেলা প্রশাসনের তরফে শুধুমাত্র ৫০ জনের উপস্থিত থাকার অনুমতি থাকলেও সেখানে জমায়েত হয় প্রায় ৫০,০০০ জনেরও বেশি। বিশাল জনসমাগম এলাকায় যানজটেরও সৃষ্টি করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.