চরিত্রের প্রয়োজনে অবিশ্বাস্য শারীরিক পরিবর্তন, নজর কেড়েছেন এই অভিনেতারা

তাঁদের অভিনয় বারবার অগণিত দর্শকের মন জিতেছে। চরিত্র ফুটিয়ে তোলার মুন্সিয়ানা অবাক করে দিয়েছে চিত্র সমালোচকদেরও। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেদের শরীরের খোলনলচে বদলে ফেলে তাঁরা রীতিমতো অবাক করে দিয়েছেন। অধিকাংশ সময় তো বাস্তব আর সেলুলয়েডের চরিত্রকে মিশিয়ে ফেলেছেন দর্শক। যার নেপথ্যে রয়েছে অক্লান্ত পরিশ্রম আর নিয়মানুবর্তিতা। আসুন জেনে নিই এমনই কিছু অভিনেতাদের কথা, অভিনয়ের খাতিরে যাদের বডি ট্রান্সফরমেশন সিনেপ্রেমীদের মনে দাগ কেটেছে।

কার্তিক আরিয়ান : সদ্য মুক্তি পেয়েছে কবীর খানের চন্দু চ্যাম্পিয়ন (Chandu Champion)। সেখানে কার্তিক আরিয়ানকে দেখা গেছে প্যারালিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী মুরলিকান্ত পেটকারের চরিত্রে। তাঁর অবিশ্বাস্য শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনাও হচ্ছে বিস্তর। ছবিতে মুরলিকান্তের জীবনের বিভিন্ন সময়কে তুলে ধরতে গিয়ে কার্তিককে শরীরের ওজন কখনও কমাতে হয়েছে আবার কখনও বা বাড়াতে হয়েছে। কোনওরকম স্টেরয়েড ছাড়া এই ট্রান্সফরমেশন সত্যিই তারিফ যোগ্য।

রণদীপ হুডা : রণদীপ হুডার অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর বডি ট্রান্সফরমেশন বারবার অবাক করে দিয়েছে দর্শকদের। ২০১৬ সালে তিনি সরবজিৎ (Sarabjit) ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করার সময় ২০ দিনে প্রায় ২৮ কেজি ওজন কমিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, এবছর মুক্তি পাওয়া স্বতন্ত্র বীর সাভারকার (Swatantrya Veer Savarkar) ছবিতে তাঁর লুক রীতিমতো নজর কেড়েছিল। নাম ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য ৩০ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলেন রণদীপ।

ভূমি পেডনেকার : যশ রাজ ফিল্মসের দম লাগা কে হাইশা (Dum Lagake Haisa) সিনেমায় আত্মপ্রকাশ ভূমি পেডনেকারের। আর প্রথম ছবিতেই চরিত্রের জন্য ২৭ কেজি ওজন বাড়িয়ে নিজের ডেডিকেশন দেখিয়েছিলেন তিনি। ছবির শ্যুট শেষে তাঁর ওজন ছিল ৯২ কেজি। কিন্তু দ্বিতীয় ছবি টয়লেট: এক প্রেম কথা- র জন্য তাঁকে আবার ওজন কমাতে হয়।

রাজকুমার রাও : ২০১৬ সালে মুক্তি পায় রাজকুমার রাওয়ের ট্র্যাপড (Trapped)। দুর্ঘটনাবশত ঘরবন্দি হয়ে যাওয়া ব্যক্তির ভূমিকার অভিনয় করেছিলেন তিনি। ছবিতে চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলার জন্য মাত্র ২২ দিনে ৭ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলেন। জানা যায়, এর জন্য প্রতিদিন তাঁকে শুধু একটি গাজর এবং এক কাপ কফি খেয়ে থাকতে হত। অন্যদিকে, ওয়েব সিরিজ বোস : ডেড/এলাইভ-এ সুভাষ চন্দ্র বসুর চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে এক মাসের মধ্যে ১১ কেজি ওজন বাড়িয়ে রীতিমতো চমকে দিয়েছিলেন রাজকুমার।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া : ২০১৪ সালে বক্সিং লেজেন্ড মেরি কমের বায়োপিকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় বি-টাউনের দেশি গার্লকে। এই চরিত্রের জন্য অভিনেত্রীকে কঠোর ডায়েট এবং ট্রেনিং ফলো করতে হয়। সমস্তরকম জাঙ্ক ফুড থেকে দূরে থাকতে হয় তাঁকে। যার ফলও পেয়েছিলেন হাতেনাতে। ছবিটি দর্শকদের খুব পছন্দ হয় এবং অভিনয়ের জন্য প্রচুর প্রশংসাও কুড়োন তিনি।

আমির খান : ২০১৬ সালে মুক্তি পায় আমির খানের ছবি দঙ্গল (Dangal)। ছবিতে মহাবীর সিং ফোগাটের ভূমিকায় তাঁর অভিনয় দাগ কেটেছিল সবার মনে। সেখানে চরিত্রের বয়স বেশি হওয়ার জন্য তাঁকে ২৬ কেজি ওজন বাড়াতে হয়। পরে আবার কম বয়সের কুস্তিগীরের সিকোয়েন্সের জন্য টোনড বডি তৈরি করতে সেই ওজন কমাতেও হয় তাঁকে।

ববি দেওল : গত বছরই মুক্তি পেয়েছে অ্যানিম্যাল (Animal)। এই ছবিতেই আবরার চরিত্রে অভিনয় করেন ববি দেওল। ছবিতে তাঁর স্ক্রিনটাইম অল্প, কিন্তু শারীরিক পরিবর্তন ও অভিনয় নজর কাড়ে দর্শকদের। সমাজ মাধ্যমে ‘লর্ড ববি’ আখ্যা প্যান তিনি। ৪ মাস ধরে দিনে দু’বার করে এক্সারসাইজ এবং কড়া ডায়েট করে এই জায়গায় পৌঁছান তিনি।

বিদ্যা বালান : ২০১১ সালের দ্য ডার্টি পিকচারে (The Dirty Picture) সিল্ক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিদ্যা বালানকে ১২ কেজি ওজন কমাতে হয়েছিল। তাঁর এই কঠোর পরিশ্রম প্রতিফলিত হয়েছিল সিনেমার পর্দায়। প্রশংসার পাশাপাশি সেবছর একাধিক পুরস্কার জিতে নিয়েছিলেন বিদ্যা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.