শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসিক নির্যাতনের শিকার! শিশুদের সুরক্ষিত রাখুন এভাবে

এ পৃথিবী সুন্দর বন্ধুত্বে, ভালোবাসায়, ভালো রাখায় ও ভালো থাকায়। কিন্তু কখনও কখনও এইসব ছাপিয়ে এমন কিছু ব্যবহার করা হয়, যা একজনকে মানসিক আঘাত দেয়। আর এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব থেকে বেরিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে একাধিক সমস্যায় পড়তে হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে তো সেটা আরও বড় আকার ধারণ করে। শিশুদের মধ্যে এই ধরনের সমস্যা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার ক্ষমতাই থাকে না।

মানসিক আঘাত, এমন একটি বিষয় যা বর্তমান যুগে সমস্ত ক্ষেত্রে ভীষণভাবে আলোচিত। কঠিন ভাষা ব্যবহার করা, উপহাস করা, বাহ্যিক রূপ নিয়ে কৌতুক করা কিংবা কড়া ভাষায় শাসন করা; এসবই একটি শিশুর মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। শৈশবে হওয়া এই ধরনের অভিজ্ঞতা থেকে যদি সঠিক পদ্ধতিতে বের না করা হয়, তাহলে তা প্রভাব ফেলতে পারে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই।

এই বিষয়ে শিশুদের সাহায্য করতে পারেন শিক্ষক বা শিক্ষিকারা। শুধু তাই নয়, সঙ্গে থাকতে হবে বাবা-মায়ের সমান প্রচেষ্টা। আসুন দেখে নিই কী কী পন্থা অবলম্বন করা যেতে পারে :

• যেহেতু শৈশবের একটা লম্বা সময় স্কুলে অতিবাহিত হয়, তাই সেখানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

• ক্লাসরুমের পরিবেশ সুশীল ও সহানুভূতিপূর্ণ রাখতে হবে।

• একজন শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে প্রত্যেক শিশুর মন বুঝতে হবে, তাদের কথা শুনতে হবে।

• ক্লাসে মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত কোনও শিশুকে দিতে হবে বিশেষ মনোযোগ। প্রয়োজনে তাকে পড়ানোর জন্য এমন পাঠ্যক্রম তৈরি করতে হবে, যা তার মানসিক বিকাশে সহায়তা করবে।

আরও পড়ুন : গরমে খুদেদের সতেজ রাখতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এগুলি

• স্কুলগুলিকে তাদের পাঠ্যসূচিতে মননশীল অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রতিকূলতা পেরিয়ে জীবনে এগিয়ে যাওয়ার পাঠ পড়াতে হবে তাদের।

• স্কুলের মধ্যে একে অপরের সঙ্গে মৃদু ভাষায় কথা বলার অভ্যাস করাতে হবে।

• ক্লাসে কারও ত্রুটি নিয়ে উপহাস বা ট্রোলিং করা থেকে বিরত রাখার পাঠ দিতে হবে।

• স্কুল থেকে কখনও কখনও বাইরে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যেতে হবে, যাতে খারাপ কোনও স্মৃতি হালকা হয়ে মিলিয়ে যায়।

• স্কুলের অনুষ্ঠানে শিশুদের অংশগ্রহণ করানোর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে সেখানেও যেন কোনও প্রকার পক্ষপাত না হয়।

পরিশেষে বলা যায় শিক্ষক শিক্ষিকা, বাবা-মা সহ সমগ্র সমাজে এই ধরনের মানসিক আঘাত বা নির্যাতন নিয়ে সচেতনতা তৈরি হলে তবেই সুরক্ষিত থাকবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল-https://www.youtube.com/@NagarNama424

ফলো করুন ফেসবুক পেজ-https://www.facebook.com/nagarnamanews

Leave a Reply

Your email address will not be published.